০৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের স্মারকলিপি, ২০ হাজার গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কা

ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ম্যাটস) মতো ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন-২০১০-এর ১৫ ধারা ও ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে পেশাগত নিবন্ধন দেওয়ার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্স সম্পন্ন করলেও ২০১০ সালের বিএমডিসি আইনে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বিএমডিসির নিবন্ধন না থাকায় তারা আইনগতভাবে দেশে বা বিদেশে ডেন্টাল চিকিৎসা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করতে পারছেন না। ডেন্টাল পরিষদের দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী আইনি স্বীকৃতির অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এছাড়া দেশের ৯টি সরকারি ও শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার নতুন ডিপ্লোমাধারী বের হচ্ছেন, যাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ম্যাটস) বিএমডিসির নিবন্ধন দেওয়া হলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এমনকি ১৯৮০ সালের আইনের আওতায় শুধুমাত্র পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেককে ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছিল, যা এখনও নবায়ন করা হচ্ছে। ডেন্টাল পরিষদের নেতারা জানান, ১৯৮৩ সালে বিএমডিসির কার্যনির্বাহী কমিটি ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ২০০৯ সালে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ও জানায়, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করে নিবন্ধনের জন্য একাধিকবার সুপারিশ পাঠালেও বিএমডিসি তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে বিএমডিসি আইন সংশোধনের বিষয়ে মতামত চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুনরায় মতামত চাওয়া হলেও বিএমডিসি এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম আযম বলেন, সমযোগ্যতা সম্পন্ন অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মতো ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদেরও বিএমডিসি আইনের ১৫ ধারা ও ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন দেওয়া সময়ের দাবি। তারা দ্রুত আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার ডিপ্লোমাধারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে ডেন্টাল চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ৫৯ বিজিবির পৃথক দুই অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ

বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের স্মারকলিপি, ২০ হাজার গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ম্যাটস) মতো ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন-২০১০-এর ১৫ ধারা ও ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে পেশাগত নিবন্ধন দেওয়ার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্স সম্পন্ন করলেও ২০১০ সালের বিএমডিসি আইনে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বিএমডিসির নিবন্ধন না থাকায় তারা আইনগতভাবে দেশে বা বিদেশে ডেন্টাল চিকিৎসা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করতে পারছেন না। ডেন্টাল পরিষদের দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী আইনি স্বীকৃতির অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এছাড়া দেশের ৯টি সরকারি ও শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার নতুন ডিপ্লোমাধারী বের হচ্ছেন, যাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ম্যাটস) বিএমডিসির নিবন্ধন দেওয়া হলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এমনকি ১৯৮০ সালের আইনের আওতায় শুধুমাত্র পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেককে ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছিল, যা এখনও নবায়ন করা হচ্ছে। ডেন্টাল পরিষদের নেতারা জানান, ১৯৮৩ সালে বিএমডিসির কার্যনির্বাহী কমিটি ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ২০০৯ সালে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ও জানায়, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করে নিবন্ধনের জন্য একাধিকবার সুপারিশ পাঠালেও বিএমডিসি তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে বিএমডিসি আইন সংশোধনের বিষয়ে মতামত চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুনরায় মতামত চাওয়া হলেও বিএমডিসি এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম আযম বলেন, সমযোগ্যতা সম্পন্ন অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মতো ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদেরও বিএমডিসি আইনের ১৫ ধারা ও ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন দেওয়া সময়ের দাবি। তারা দ্রুত আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার ডিপ্লোমাধারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে ডেন্টাল চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।