ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত জোড়া পুকুর, যা স্থানীয়ভাবে ‘জোড়া পদ্মপুকুর’ নামে পরিচিত, সেখানে হঠাৎ করেই দেখা মিলেছে বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি জল ময়ূর বা জল মূরগির। কয়েকদিন ধরে পুকুরের পদ্মপাতার ওপর ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে এই দৃষ্টিনন্দন পাখিটিকে। এর উপস্থিতি স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা জোড়া পুকুরে অতিথি পাখির আগমন প্রমাণ করে যে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে এটি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলে পরিণত হতে পারে। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুকুর দুটির সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং বিনোদন ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে অনেকেই পুকুরটিকে অনানুষ্ঠানিক ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা পুকুরের পাড় বাঁধাই, নিয়মিত পরিচর্যা, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, “জোড়া পদ্মপুকুর সংস্কার করে যদি একটি সুন্দর বিনোদন ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, তাহলে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে, তেমনি দুর্লভ পাখিসহ নানা জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও সংরক্ষিত হবে।” জল ময়ূর, যা নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আকর্ষণীয় জলচর পাখি। লম্বা লেজ ও মনোমুগ্ধকর বর্ণের কারণে প্রজনন মৌসুমে পাখিটি অত্যন্ত সুন্দর দেখায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জল ময়ূর সাধারণত হাওর, বিল, হ্রদ ও মিঠাপানির জলাভূমিতে বসবাস করে। ভাসমান শাপলা-পদ্মপাতার ওপর হেঁটে বেড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতার জন্য এটি পরিচিত। জলজ উদ্ভিদের ওপর থাকা পোকামাকড়, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, কচি পাতা ও বীজ এদের প্রধান খাদ্য। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি শাপলা বা পদ্মপাতার ওপর বাসা তৈরি করে এবং স্ত্রী পাখি ডিম পাড়ার পর চলে যায়। পুরুষ পাখিই একাই ২৩ থেকে ২৬ দিন ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় এবং দীর্ঘ সময় বাচ্চাদের পরিচর্যা করে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জল ময়ূরসহ বিভিন্ন জলচর পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে,
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোড়া পদ্মপুকুর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে পাখি পর্যবেক্ষণ ও প্রকৃতি-ভিত্তিক বিনোদনের একটি সম্ভাবনাময় স্থানে পরিণত হতে পারে।
বর্তমানে দুর্লভ এই পাখির উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জোড়া পদ্মপুকুরকে পরিবেশবান্ধব ও আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করবে, যাতে ভবিষ্যতেও জল ময়ূরসহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 


















