নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর তানোরে ১২ হাজার টাকার কীটনাশক চুরির অভিযোগে ‘মব’ সৃষ্টি করে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখম ও জোরপুর্বক ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে ফাকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। বুধবার(১৭জুন) উপজেলার বিল্লী বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরি করা অপরাধ। চুরির অপরাধে তাকে পুলিশে না দিয়ে মব সৃষ্টি করে মারপিট ও সালিশ বৈঠক বসিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা কতটা আইনসিদ্ধ ? উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) রামনাথপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের পুত্র রুবেল একটি কীটনাশক কোম্পানিতে চাকরি করতেন।কিন্ত্ত একবছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এর পর থেকে তিনি তার বন্ধু বিল্লী বাজারের মেসার্স মারিয়া টেড্রার্সের স্বত্ত্বাধিকারী নরুল ইসলামের ছেলে মাহবুবুল আলমের দোকানে ওঠাবসা করেন। প্রতি হাট বার বিল্লী হাটে গিয়ে সে তার দোকানে বসে সময় কাটায়।
বুধবার ছিলো বিল্লী হাটের দিন।এদিনও রুবেল মাহবুবুল আলমের দোকানে বসে ছিলেন। হাট-বাজার করে রুবেল বাড়ি আসতে চাইলে তার বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে প্রায় ১২ হাজার টাকা মুল্যর বিভিন্ন কীটনাশক পাওয়া যায়।এসব কীটনাশক চুরির অভিযোগে মব সৃষ্টি করে একটি ঘরে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে রুবেলের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক তার কাছে থেকে চুরির স্বীকারোক্তি আদায় ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নিয়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। চুরির অপরাধে যদি জরিমানাই নেয়া হবে তাহলে মব সৃষ্টি করে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হলো কেন ? আবার চুরি করা তো ফৌজদারি অপরাধ,সেটা থানা পুলিশকে না জানিয়ে সালিশ করা হলো কার স্বার্থে ? এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুবেলের এক স্বজন দৈনিক আমার ভূমিকে বলেন,রুবেলের সঙ্গে যেটা হয়েছে সেটা অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।কারণ তাকে মারপিট করে জোরপুর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং তার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারা যদি জরিমানার নামে টাকা আদায় করবেন তাহলে এসব করা হলো কেন ? তিনি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে যে হেয়ওপ্রতিপন্ন হলো এর দায় নিবে কে ? তারা এঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স মারিয়া টেড্রার্সের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম বলেন,সে দীর্ঘদিন যাবত তার দোকানে চুরি করে আসছে,অনেক কস্টের পর তাকে হাতনাতে ধরা হয়েছে।তিনি বলেন,কোনো মব সৃষ্টি করা হয়নি উত্তেজিত জনতা ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে দু’একটা কিল-ঘুষি মারতে পারে। তিনি বলেন,রুবেলের অনুরোধেই তাকে থানায় না দিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল বলেন,যা হবার হয়েছে তিনি এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চান না।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাসুদ পারভেজ দৈনিক আমার ভূমিকে বলেন, এমন ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেননি।
রিপোর্টারের নাম 
















