০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ী থানার নারী এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ঘুষ ও দুর্ব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ।

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৫০২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিবেদক|
রাজশাহী রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় কর্মরত নারী এএসআই (নিঃ) লতিফা খাতুনের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ গ্রহণ, টাকা দাবি এবং চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জিডি থেকে শুরু করে অভিযোগ দায়ের—সবক্ষেত্রেই তার লালসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি দরিদ্র ভ্যানচালক কিংবা ৮৫ বছরের বৃদ্ধের টাকা হাতিয়ে নিতেও তার হাত কাঁপছে না বলে জানা গেছে।
​জিডি করতেও গুনতে হয় টাকা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক ভুক্তভোগী তার গাড়ির কাগজ হারিয়ে যাওয়ায় থানায় জিডি করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, জিডি লিখে দেওয়ার নাম করে এএসআই লতিফা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ২০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এখানেই শেষ নয়, জিডি জমা দেওয়ার সময় তিনি আরও ১০০০ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানায় কর্মরত অন্য এক পুলিশ সদস্যের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই ১০০০ টাকা নিতে ব্যর্থ হন লতিফা খাতুন।
​ছাড় পাচ্ছেন না ভ্যানচালক ও বৃদ্ধরাও লতিফা খাতুনের অনৈতিক দাবির শিকার হয়েছেন দিগ্রাম এলাকার এক অসহায় ভ্যানচালকও। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওই ভ্যানচালকের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন এই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া বিদিরপুর এলাকার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ শাজাহান আলীও তার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
​ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ তালিকা অনুসন্ধানে জানা গেছে, এএসআই লতিফা খাতুনের হাতে বিভিন্ন সময় আর্থিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা হয়েছেন:
১. শ্রী মুকুল মিঞ্জ (৩২), আগলপুর বাগানপাড়া।
২. মৌসুমি বেগম (৩৫), মাটিকাটা কারির মোড়।
৩. মোসাঃ মানসুরা বেগম, মহব্বতপুর।
৪. মোসাঃ মিলিয়ারা (৩০), দেবিনগর কলিকাতা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
৫. শুনিল মুর্মু, পাথরঘাটা।
৬. মোঃ মাফিকুল ইসলাম (৫৫), চর বয়ারমারি।
৭. মোঃ আমিনুল ইসলাম (ফারুক), মোমিন পাড়া।
৮. মোসাঃ বেলিয়ারা বেগম, কলিপুর।
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাউকে ২০০, কাউকে ৫০০, আবার কাউকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য করেছেন লতিফা। টাকা ছাড়া তার কলম চলে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
​আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এএসআই লতিফার আচার-ব্যবহার এবং ভাষা অপেশাদারিত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে কারণে-অকারণে রাগারাগি ও দুর্ব্যবহার করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তার এমন আচরণের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
​বিপরীত চিত্রে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয়রা গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তদন্ত কর্মকর্তার সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের মতে, ঊর্ধ্বতন এই দুই কর্মকর্তা অত্যন্ত আন্তরিক এবং জনবান্ধব। তবে এএসআই লতিফার মতো অধস্তন কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পুরো থানার সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
​গোদাগাড়ীর সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতিবাজ ও রূঢ় আচরণের নারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রাজশাহী গোদাগাড়ী প্রতিবেদক
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল
01712483534

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গোদাগাড়ী থানার নারী এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ঘুষ ও দুর্ব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ।

গোদাগাড়ী থানার নারী এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ঘুষ ও দুর্ব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০২:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিবেদক|
রাজশাহী রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় কর্মরত নারী এএসআই (নিঃ) লতিফা খাতুনের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ গ্রহণ, টাকা দাবি এবং চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জিডি থেকে শুরু করে অভিযোগ দায়ের—সবক্ষেত্রেই তার লালসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি দরিদ্র ভ্যানচালক কিংবা ৮৫ বছরের বৃদ্ধের টাকা হাতিয়ে নিতেও তার হাত কাঁপছে না বলে জানা গেছে।
​জিডি করতেও গুনতে হয় টাকা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক ভুক্তভোগী তার গাড়ির কাগজ হারিয়ে যাওয়ায় থানায় জিডি করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, জিডি লিখে দেওয়ার নাম করে এএসআই লতিফা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ২০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এখানেই শেষ নয়, জিডি জমা দেওয়ার সময় তিনি আরও ১০০০ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানায় কর্মরত অন্য এক পুলিশ সদস্যের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই ১০০০ টাকা নিতে ব্যর্থ হন লতিফা খাতুন।
​ছাড় পাচ্ছেন না ভ্যানচালক ও বৃদ্ধরাও লতিফা খাতুনের অনৈতিক দাবির শিকার হয়েছেন দিগ্রাম এলাকার এক অসহায় ভ্যানচালকও। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওই ভ্যানচালকের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন এই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া বিদিরপুর এলাকার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ শাজাহান আলীও তার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
​ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ তালিকা অনুসন্ধানে জানা গেছে, এএসআই লতিফা খাতুনের হাতে বিভিন্ন সময় আর্থিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা হয়েছেন:
১. শ্রী মুকুল মিঞ্জ (৩২), আগলপুর বাগানপাড়া।
২. মৌসুমি বেগম (৩৫), মাটিকাটা কারির মোড়।
৩. মোসাঃ মানসুরা বেগম, মহব্বতপুর।
৪. মোসাঃ মিলিয়ারা (৩০), দেবিনগর কলিকাতা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
৫. শুনিল মুর্মু, পাথরঘাটা।
৬. মোঃ মাফিকুল ইসলাম (৫৫), চর বয়ারমারি।
৭. মোঃ আমিনুল ইসলাম (ফারুক), মোমিন পাড়া।
৮. মোসাঃ বেলিয়ারা বেগম, কলিপুর।
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাউকে ২০০, কাউকে ৫০০, আবার কাউকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য করেছেন লতিফা। টাকা ছাড়া তার কলম চলে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
​আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এএসআই লতিফার আচার-ব্যবহার এবং ভাষা অপেশাদারিত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে কারণে-অকারণে রাগারাগি ও দুর্ব্যবহার করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তার এমন আচরণের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
​বিপরীত চিত্রে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয়রা গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তদন্ত কর্মকর্তার সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের মতে, ঊর্ধ্বতন এই দুই কর্মকর্তা অত্যন্ত আন্তরিক এবং জনবান্ধব। তবে এএসআই লতিফার মতো অধস্তন কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পুরো থানার সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
​গোদাগাড়ীর সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতিবাজ ও রূঢ় আচরণের নারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রাজশাহী গোদাগাড়ী প্রতিবেদক
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল
01712483534