১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর ফিউচার উম্মাহ স্কুলে শিশুদের ব্যতিক্রমী ‘লাইভ হজ’ প্রশিক্ষণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৫১৬ বার পড়া হয়েছে


নিজস্ব প্রতিবেদক,
পবিত্র হজের আধ্যাত্মিক আবহে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজশাহীর উপশহর নিউমার্কেট এলাকার ফিউচার উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ক্যাম্পাস। শুভ্র ইহরামে সজ্জিত কোমলমতি শিশুদের কণ্ঠে ভেসে আসে তালবিয়ার ধ্বনি— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…”। বিশ্বজুড়ে হজের প্রস্তুতির সময়েই স্কুলটিতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষণীয় ‘হজ সিমুলেশন প্রোগ্রাম’।
শিশুদের ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ একটি ব্যবহারিক হজ ম্যাপ ও গাইডলাইন তৈরি করে। পুরো আয়োজনজুড়ে শিশুরা ধাপে ধাপে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় সরাসরি অংশ নেয়।
প্রশিক্ষণের শুরুতেই শিশুদের জন্য তৈরি করা হয় পাসপোর্ট, ভিসা ও বোর্ডিং পাস সংগ্রহের প্রতীকী কাউন্টার। সেখানে তারা হজযাত্রার প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। পরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ‘ফিউচার উম্মাহ এয়ারলাইন্স’ নামের একটি ডামি বিমানে আরোহণের মাধ্যমে হজযাত্রার অভিজ্ঞতা নেয় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ইহরামের নিয়ম-কানুন ও নিয়ত সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হয়।
মক্কা শরিফের পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে শ্রেণীকক্ষে নির্মাণ করা হয় কাবা শরিফের একটি দৃষ্টিনন্দন প্রতিকৃতি। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিশুরা সাতবার তাওয়াফ সম্পন্ন করে এবং সমস্বরে তালবিয়া পাঠ করে। এরপর সাফা-মারওয়ার প্রতীকী স্থানে তারা সাঈ পালন করে।
হজের ধারাবাহিকতায় শিশুদের মুজদালিফার আদলে তৈরি একটি স্থানে বসিয়ে জামারাতের জন্য কঙ্কর সংগ্রহের নিয়ম শেখানো হয়। পরে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিরোধ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষাও দেওয়া হয়।
কুরবানির তাৎপর্য বোঝাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তুলা দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ভেড়ার মডেল ব্যবহার করে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে প্রতীকী কুরবানিতে অংশ নেয় এবং ত্যাগের মহিমা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে শেষ হয় পুরো আয়োজন।
বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিশুদের ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো ব্যবহারিকভাবে শেখানোই তাদের মূল লক্ষ্য। দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ক্ষুদে হাজিদের এই ব্যতিক্রমী ও সুশৃঙ্খল আয়োজন শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে স্কুলটির এই উদ্যোগ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা হত্যা মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজশাহীর ফিউচার উম্মাহ স্কুলে শিশুদের ব্যতিক্রমী ‘লাইভ হজ’ প্রশিক্ষণ

আপডেট সময় : ১২:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক,
পবিত্র হজের আধ্যাত্মিক আবহে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজশাহীর উপশহর নিউমার্কেট এলাকার ফিউচার উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ক্যাম্পাস। শুভ্র ইহরামে সজ্জিত কোমলমতি শিশুদের কণ্ঠে ভেসে আসে তালবিয়ার ধ্বনি— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…”। বিশ্বজুড়ে হজের প্রস্তুতির সময়েই স্কুলটিতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষণীয় ‘হজ সিমুলেশন প্রোগ্রাম’।
শিশুদের ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ একটি ব্যবহারিক হজ ম্যাপ ও গাইডলাইন তৈরি করে। পুরো আয়োজনজুড়ে শিশুরা ধাপে ধাপে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় সরাসরি অংশ নেয়।
প্রশিক্ষণের শুরুতেই শিশুদের জন্য তৈরি করা হয় পাসপোর্ট, ভিসা ও বোর্ডিং পাস সংগ্রহের প্রতীকী কাউন্টার। সেখানে তারা হজযাত্রার প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। পরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ‘ফিউচার উম্মাহ এয়ারলাইন্স’ নামের একটি ডামি বিমানে আরোহণের মাধ্যমে হজযাত্রার অভিজ্ঞতা নেয় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ইহরামের নিয়ম-কানুন ও নিয়ত সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হয়।
মক্কা শরিফের পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে শ্রেণীকক্ষে নির্মাণ করা হয় কাবা শরিফের একটি দৃষ্টিনন্দন প্রতিকৃতি। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিশুরা সাতবার তাওয়াফ সম্পন্ন করে এবং সমস্বরে তালবিয়া পাঠ করে। এরপর সাফা-মারওয়ার প্রতীকী স্থানে তারা সাঈ পালন করে।
হজের ধারাবাহিকতায় শিশুদের মুজদালিফার আদলে তৈরি একটি স্থানে বসিয়ে জামারাতের জন্য কঙ্কর সংগ্রহের নিয়ম শেখানো হয়। পরে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিরোধ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষাও দেওয়া হয়।
কুরবানির তাৎপর্য বোঝাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তুলা দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ভেড়ার মডেল ব্যবহার করে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে প্রতীকী কুরবানিতে অংশ নেয় এবং ত্যাগের মহিমা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে শেষ হয় পুরো আয়োজন।
বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিশুদের ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো ব্যবহারিকভাবে শেখানোই তাদের মূল লক্ষ্য। দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ক্ষুদে হাজিদের এই ব্যতিক্রমী ও সুশৃঙ্খল আয়োজন শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে স্কুলটির এই উদ্যোগ।