০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তানোরে আদিবাসী ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু”হত্যা না আত্মহত্যা নানা প্রশ্ন এলাকাবাসীর..?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক আদিবাসী ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মিল্টন বিশরা (৩৭)। তিনি উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া আদিবাসী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ির একটি কক্ষের এক ফিট বাশ (দ্যাঁতার)সংগে গলায় চাদর পেঁচিয়ে থাকা অবস্থায় মিল্টন বিশরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও ঘটনাটি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।সরজমিন গতকাল ঐ বাসায় গেলে দেখা যায় ঐ বাঁশ এর উচ্চতা মাটি থেকে খুব বেশি উচু না। কারন মানুষের উচ্চতা আর বাশের উচ্চতা সমান।

প্রতিবেশীরা জানান ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন। দিনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটলেও কেউ তা টের পাননি বলে দাবি তাদের। এছাড়া গায়ের চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া সম্ভব কি না এবং যে উচ্চতায় তিনি ঝুলছিলেন তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে..? প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মরদেহ নামানোর সময় তার দুই পা মাটিতে স্পর্শ করছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়রা ঘটনাটির অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এ্যাঞ্জেল সরেন ও এগনেস শিউস হেমরম জানান মিল্টন একজন সুস্থ ও স্বচ্ছল ব্যক্তি ছিলেন। তার প্রায় ১৫/২০ বিঘা ফসলি জমি ছিল এবং আত্মহত্যার মতো কোনো কারণ তাদের জানা নেই। তারা অভিযোগ করেন কচুয়া গ্রামের সোনা কাজি ও তরিকুল ইসলাম প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে মিল্টনের বাড়িতে গিয়ে হাঁসের মাংস ও চোলাই মদ নিয়ে আড্ডা দিতেন। এসব আয়োজন মিল্টনের স্ত্রীর উপস্থিতিতেই হতো বলে তারা দাবি করেন।

মিল্টনের পরিবারে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা ছাড়াও আট বছর ও তিন বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। এসব বিষয় মিল্টন মেনে নিতে পারতেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই তার স্ত্রী ও ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হতো। অভিযোগ রয়েছে এ সময় মিল্টনকে শাসন ও হুমকিও দেওয়া হতো।

এছাড়া মিল্টনের কিছু জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। ওই জমির দেখভাল করতেন তরিকুল ইসলাম। গ্রামবাসীদের একটি অংশের ধারণা এসব পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মিল্টনের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী সাবিনা হেমরম বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তিনি স্বীকার করেন সোনা কাজি ও তরিকুল ইসলাম মাঝে মধ্যে তাদের বাড়িতে নেশাজাতীয় পানীয় গ্রহণ করতেন। তবে মৃত্যুর সময় তার পা মাটিতে স্পর্শ করছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন তার পা মাটিতেই কুস্তি হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আমি একটি স্কুলে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসাবে কাজ করি সেখানেই ছিলাম বাসায় আসার পরে ঘরে গিয়ে দেখি মিন্টনের মৃতদেহ বাঁশের খুটির সাথে ঝুলে আছে।

প্রতিবেশী সুরেশ হেমরম বলেন,এটি আত্মহত্যা বলে মনে হয় না। তাদের ধারণা মিল্টনকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি চালিয়ে দেওয়া হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন,জায়গা জমির বিষয়ে তিনি মাঝে মাঝে মিল্টনের বাড়িতে যেতেন। তবে মিল্টনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হোক তিনিও সেটাই চান।

এবিষয়ে সোনা কাজি বলেন, মিল্টন আমার কাজ কাম করতো, মিল্টনের বাসায় প্রতিদিন চোলাই মদ নিয়ে আসর বসাতেন এমন প্রশ্নে,,? তিনি অস্বীকার করে এড়িয়ে জান।

এ ঘটনায় আদিবাসী পল্লীসহ পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান শাহীন বলেন, এই ঘটনায় থানায় (ইউডি) মামলা করা হয়েছে, ময়নাতদন্তে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে,যদি কেউ জড়িত থাকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ট্যাগস :

রাজশাহীতে র‍্যাবের অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার​

তানোরে আদিবাসী ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু”হত্যা না আত্মহত্যা নানা প্রশ্ন এলাকাবাসীর..?

আপডেট সময় : ০১:৩১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক আদিবাসী ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মিল্টন বিশরা (৩৭)। তিনি উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া আদিবাসী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ির একটি কক্ষের এক ফিট বাশ (দ্যাঁতার)সংগে গলায় চাদর পেঁচিয়ে থাকা অবস্থায় মিল্টন বিশরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও ঘটনাটি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।সরজমিন গতকাল ঐ বাসায় গেলে দেখা যায় ঐ বাঁশ এর উচ্চতা মাটি থেকে খুব বেশি উচু না। কারন মানুষের উচ্চতা আর বাশের উচ্চতা সমান।

প্রতিবেশীরা জানান ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন। দিনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটলেও কেউ তা টের পাননি বলে দাবি তাদের। এছাড়া গায়ের চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া সম্ভব কি না এবং যে উচ্চতায় তিনি ঝুলছিলেন তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে..? প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মরদেহ নামানোর সময় তার দুই পা মাটিতে স্পর্শ করছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়রা ঘটনাটির অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এ্যাঞ্জেল সরেন ও এগনেস শিউস হেমরম জানান মিল্টন একজন সুস্থ ও স্বচ্ছল ব্যক্তি ছিলেন। তার প্রায় ১৫/২০ বিঘা ফসলি জমি ছিল এবং আত্মহত্যার মতো কোনো কারণ তাদের জানা নেই। তারা অভিযোগ করেন কচুয়া গ্রামের সোনা কাজি ও তরিকুল ইসলাম প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে মিল্টনের বাড়িতে গিয়ে হাঁসের মাংস ও চোলাই মদ নিয়ে আড্ডা দিতেন। এসব আয়োজন মিল্টনের স্ত্রীর উপস্থিতিতেই হতো বলে তারা দাবি করেন।

মিল্টনের পরিবারে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা ছাড়াও আট বছর ও তিন বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। এসব বিষয় মিল্টন মেনে নিতে পারতেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই তার স্ত্রী ও ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হতো। অভিযোগ রয়েছে এ সময় মিল্টনকে শাসন ও হুমকিও দেওয়া হতো।

এছাড়া মিল্টনের কিছু জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। ওই জমির দেখভাল করতেন তরিকুল ইসলাম। গ্রামবাসীদের একটি অংশের ধারণা এসব পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মিল্টনের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী সাবিনা হেমরম বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তিনি স্বীকার করেন সোনা কাজি ও তরিকুল ইসলাম মাঝে মধ্যে তাদের বাড়িতে নেশাজাতীয় পানীয় গ্রহণ করতেন। তবে মৃত্যুর সময় তার পা মাটিতে স্পর্শ করছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন তার পা মাটিতেই কুস্তি হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আমি একটি স্কুলে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসাবে কাজ করি সেখানেই ছিলাম বাসায় আসার পরে ঘরে গিয়ে দেখি মিন্টনের মৃতদেহ বাঁশের খুটির সাথে ঝুলে আছে।

প্রতিবেশী সুরেশ হেমরম বলেন,এটি আত্মহত্যা বলে মনে হয় না। তাদের ধারণা মিল্টনকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি চালিয়ে দেওয়া হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন,জায়গা জমির বিষয়ে তিনি মাঝে মাঝে মিল্টনের বাড়িতে যেতেন। তবে মিল্টনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হোক তিনিও সেটাই চান।

এবিষয়ে সোনা কাজি বলেন, মিল্টন আমার কাজ কাম করতো, মিল্টনের বাসায় প্রতিদিন চোলাই মদ নিয়ে আসর বসাতেন এমন প্রশ্নে,,? তিনি অস্বীকার করে এড়িয়ে জান।

এ ঘটনায় আদিবাসী পল্লীসহ পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান শাহীন বলেন, এই ঘটনায় থানায় (ইউডি) মামলা করা হয়েছে, ময়নাতদন্তে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে,যদি কেউ জড়িত থাকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।