১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে রুয়েট কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবি, মোটর সাইকেল ভাংচুর, আদালতে মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীতে রুয়েটের এক কর্মকর্তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এসময় তার বন্ধু শহিদুল হাসান শাহী চাঁদা দিতে বাঁধা দেওয়ায় তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে রাজশাহী প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানায় ১নং আসামী ইউসুফ আলী ও ২নং আসামী জহুরুল হাসানের নাম উল্লেখ্য করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপর থেকে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। রুয়েট কর্মকর্তার বন্ধু শাহীর মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় তার স্ত্রী তামান্না ইয়াসমিন জেলা রাজশাহী বিজ্ঞ সি.এম.এম আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৩৮১ সি/২০২৫ (বোয়ালিয়া)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে পূর্ব ঘটনার বিরোধের জের ধরে মামলার ২নং আসামী জহুরুল হাসান মাঝে মধ্যেই রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসানের কাছে এক লক্ষ চাঁদা দাবি করে আসছিলো। ওই রুয়েট কর্মকর্তা তার বন্ধু শাহীকে এক লক্ষ চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানালে মামলার ২নং সাক্ষী শাহী ২নং আসামী জহুরুল হাসানকে টাকা চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় মামলার ২নং আসামী জহুরুল হাসান মামলার ২নং সাক্ষী শাহীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে সকল আসামী একই উদ্দেশ্যে বাদীর বসত বাড়ির সামনে এসে বাদী তামান্না ও তার স্বামী শাহীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বাদী ও বাদীর স্বামী আসামীগণকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১নং আসামী ইউসুফ আলী হুকুম দেয় যে শালাদের প্রাণে মেরে ফেল। হুকুম পাওয়া মাত্র ২নং আসামী জহুরুল হাসান হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীর স্বামীর ব্যবহৃত নতুন এসপি-হোন্ডা-১২৫ সিসি মোটর সাইকেলটি ভাংচুর করে ১,৬৫,০০০/- (এক লক্ষ পয়সট্টি) টাকা ক্ষতি সাধন করে। বাদী ভাংচুর করতে নিষেধ করলে ২নং আসামী জহুরুল তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীকে মারধর করলে গুরুত্বও রক্তাক্ত জখম হয় এবং বাদীনি মাটিয়ে পড়ে যায়। এসময় মামলার ৫নং আসামী হাফিজা বেগম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। তখন ৩ ও ৪ নং আসামী মেহেদী হাসান সনি ও রফিকুল হাসান চন্দন বাদিনীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করে ছেলা ও ফোলা জখম করে এবং ৫ ও ৬ নং আসামীদ্বয় হাফিজা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার সারিকা বাদিনীর শরীরের কাপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। তখন বাদীর চিৎকারে স্বাক্ষীগণ ঘটনাস্থলে আসলে সকল আসামীগণ বাদী, বাদীর স্বামী ও বাচ্চাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্বাক্ষীগণ বাদিনীর অবস্থা খারাপ দেখে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বাদীনি ৩দিন রামেকহা সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাদীনি সুস্থ হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটি গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে বাদী তামান্না রাজশাহী আদালতে আসামীদের নাম উল্লেখ করে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বোয়ালিয়া মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী তামান্না ইয়াসমিন জানান, মামলা দায়েরর পর থেকে আসামীগণ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। মামলা তুলে না নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। সেই সাথে তার দুই সন্তানকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেয়া হবে। আর তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলেও প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর নিজের বসত বাড়ি ছেড়ে মহানগরীর তালাইমারী কাজলা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে বলেও জানান মামলার বাদী।

রাজশাহী প্রযুক্তি ও প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান জানান, তার কাছে থেকে বেশ কয়েক মাস ধরে মামলা ২নং আসামী জহুরুল হাসান মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলো। তার চাহিদাকৃত এক লক্ষ টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় জহুরুল। এ বিষয়ে তিনি আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অভিযোগটি এখনো আমলে নেয়নি পুলিশ।
এ ব্যাপারে বাদীর স্বামী শহিদুল হাসান শাহী বলেন, আমার স্ত্রী মামলা দায়েরের পর থেকে তার নামে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ গিয়ে হয়রানী করার চেষ্টা করছে মামলার আসামীরা। পরিবারকে বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে নিজের পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে মহানগরীর তালাইমারী কাজলা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছি। তারপরেও তারা আমাকে যেকোন সময় প্রাণে মেরে ফেলবে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী অফিসার (আইও) এসআই মিজানুর রহমান জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমসি’র জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলেই তিনি মামলার তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দিবেন আদালতে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১৭ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ

রাজশাহীতে রুয়েট কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবি, মোটর সাইকেল ভাংচুর, আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ১২:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীতে রুয়েটের এক কর্মকর্তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এসময় তার বন্ধু শহিদুল হাসান শাহী চাঁদা দিতে বাঁধা দেওয়ায় তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে রাজশাহী প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানায় ১নং আসামী ইউসুফ আলী ও ২নং আসামী জহুরুল হাসানের নাম উল্লেখ্য করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপর থেকে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। রুয়েট কর্মকর্তার বন্ধু শাহীর মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় তার স্ত্রী তামান্না ইয়াসমিন জেলা রাজশাহী বিজ্ঞ সি.এম.এম আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৩৮১ সি/২০২৫ (বোয়ালিয়া)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে পূর্ব ঘটনার বিরোধের জের ধরে মামলার ২নং আসামী জহুরুল হাসান মাঝে মধ্যেই রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসানের কাছে এক লক্ষ চাঁদা দাবি করে আসছিলো। ওই রুয়েট কর্মকর্তা তার বন্ধু শাহীকে এক লক্ষ চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানালে মামলার ২নং সাক্ষী শাহী ২নং আসামী জহুরুল হাসানকে টাকা চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় মামলার ২নং আসামী জহুরুল হাসান মামলার ২নং সাক্ষী শাহীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে সকল আসামী একই উদ্দেশ্যে বাদীর বসত বাড়ির সামনে এসে বাদী তামান্না ও তার স্বামী শাহীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বাদী ও বাদীর স্বামী আসামীগণকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১নং আসামী ইউসুফ আলী হুকুম দেয় যে শালাদের প্রাণে মেরে ফেল। হুকুম পাওয়া মাত্র ২নং আসামী জহুরুল হাসান হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীর স্বামীর ব্যবহৃত নতুন এসপি-হোন্ডা-১২৫ সিসি মোটর সাইকেলটি ভাংচুর করে ১,৬৫,০০০/- (এক লক্ষ পয়সট্টি) টাকা ক্ষতি সাধন করে। বাদী ভাংচুর করতে নিষেধ করলে ২নং আসামী জহুরুল তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীকে মারধর করলে গুরুত্বও রক্তাক্ত জখম হয় এবং বাদীনি মাটিয়ে পড়ে যায়। এসময় মামলার ৫নং আসামী হাফিজা বেগম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। তখন ৩ ও ৪ নং আসামী মেহেদী হাসান সনি ও রফিকুল হাসান চন্দন বাদিনীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করে ছেলা ও ফোলা জখম করে এবং ৫ ও ৬ নং আসামীদ্বয় হাফিজা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার সারিকা বাদিনীর শরীরের কাপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। তখন বাদীর চিৎকারে স্বাক্ষীগণ ঘটনাস্থলে আসলে সকল আসামীগণ বাদী, বাদীর স্বামী ও বাচ্চাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্বাক্ষীগণ বাদিনীর অবস্থা খারাপ দেখে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বাদীনি ৩দিন রামেকহা সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাদীনি সুস্থ হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটি গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে বাদী তামান্না রাজশাহী আদালতে আসামীদের নাম উল্লেখ করে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বোয়ালিয়া মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী তামান্না ইয়াসমিন জানান, মামলা দায়েরর পর থেকে আসামীগণ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। মামলা তুলে না নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। সেই সাথে তার দুই সন্তানকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেয়া হবে। আর তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলেও প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর নিজের বসত বাড়ি ছেড়ে মহানগরীর তালাইমারী কাজলা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে বলেও জানান মামলার বাদী।

রাজশাহী প্রযুক্তি ও প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান জানান, তার কাছে থেকে বেশ কয়েক মাস ধরে মামলা ২নং আসামী জহুরুল হাসান মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলো। তার চাহিদাকৃত এক লক্ষ টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় জহুরুল। এ বিষয়ে তিনি আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অভিযোগটি এখনো আমলে নেয়নি পুলিশ।
এ ব্যাপারে বাদীর স্বামী শহিদুল হাসান শাহী বলেন, আমার স্ত্রী মামলা দায়েরের পর থেকে তার নামে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ গিয়ে হয়রানী করার চেষ্টা করছে মামলার আসামীরা। পরিবারকে বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে নিজের পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে মহানগরীর তালাইমারী কাজলা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছি। তারপরেও তারা আমাকে যেকোন সময় প্রাণে মেরে ফেলবে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী অফিসার (আইও) এসআই মিজানুর রহমান জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমসি’র জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলেই তিনি মামলার তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দিবেন আদালতে বলে জানান তিনি।