১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ভ্যানচালককে পেরেক বিদ্ধ করে হত্যা চোর সন্দেহে মধ্যযুগীয় বর্বরতা ভ্যানচালক ফারুক হা হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৬।

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
​রাজশাহীর বাগমারায় চোর সন্দেহে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৮) বিবস্ত্র করে হাত-পায়ে পেরেক বিদ্ধ করে বর্বরোচিত কায়দায় হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর জেলার সদর থানাধীন বনবেলঘড়িয়া পশ্চিম বাইপাস এলাকায় একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
​গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাগমারা থানার সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ও মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রেজাউল করিম (৪৭), ২ নম্বর আসামি মো. আঃ মতিন (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ড্রাইভার (৪০), মো. আসাদুল ইসলাম (৩৬), মো. হাবিবুর রহমান (৫৫) এবং মো. আঃ হান্নান (৩৮)। তারা সবাই বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
​মধ্যযুগীয় বর্বরতা:
​মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওমর ফারুক ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্যান রেখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরে যান। ফিরে এলে চোর সন্দেহে তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল ও মতিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ২০-২৫ জন লোক ফারুকের ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। লোহার রড দিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পেটানোর পর তাকে বিবস্ত্র করে দেয়ালের সাথে দাঁড় করানো হয়। এরপর তার দুই হাত ও দুই পায়ে ২ ইঞ্চি লম্বা লোহার পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় ফারুক একটু পানি পান করতে চাইলেও ঘাতকরা তাকে পানি দেয়নি।
​ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা:
​নির্যাতনের একপর্যায়ে ফারুক নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামিরা ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা ফারুককে ‘মাদকসেবী’ সাজিয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাগমারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভুঞা। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফারুককে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর দুপুরে ফারুকের মৃত্যু হয়।
​র‍্যাবের অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ:
​এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৪)। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল।
​র‍্যাব-৫ এর একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয় যে, আসামিরা ‘রজনীগন্ধা পরিবহন’ নামক একটি নৈশ কোচে করে ঢাকা পালানোর চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিক নাটোরে চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। র‍্যাব জানায়, তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল
01712483534

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১৭ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ

রাজশাহীতে ভ্যানচালককে পেরেক বিদ্ধ করে হত্যা চোর সন্দেহে মধ্যযুগীয় বর্বরতা ভ্যানচালক ফারুক হা হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৬।

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
​রাজশাহীর বাগমারায় চোর সন্দেহে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৮) বিবস্ত্র করে হাত-পায়ে পেরেক বিদ্ধ করে বর্বরোচিত কায়দায় হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর জেলার সদর থানাধীন বনবেলঘড়িয়া পশ্চিম বাইপাস এলাকায় একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
​গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাগমারা থানার সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ও মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রেজাউল করিম (৪৭), ২ নম্বর আসামি মো. আঃ মতিন (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ড্রাইভার (৪০), মো. আসাদুল ইসলাম (৩৬), মো. হাবিবুর রহমান (৫৫) এবং মো. আঃ হান্নান (৩৮)। তারা সবাই বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
​মধ্যযুগীয় বর্বরতা:
​মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওমর ফারুক ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্যান রেখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরে যান। ফিরে এলে চোর সন্দেহে তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল ও মতিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ২০-২৫ জন লোক ফারুকের ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। লোহার রড দিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পেটানোর পর তাকে বিবস্ত্র করে দেয়ালের সাথে দাঁড় করানো হয়। এরপর তার দুই হাত ও দুই পায়ে ২ ইঞ্চি লম্বা লোহার পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় ফারুক একটু পানি পান করতে চাইলেও ঘাতকরা তাকে পানি দেয়নি।
​ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা:
​নির্যাতনের একপর্যায়ে ফারুক নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামিরা ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা ফারুককে ‘মাদকসেবী’ সাজিয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাগমারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভুঞা। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফারুককে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর দুপুরে ফারুকের মৃত্যু হয়।
​র‍্যাবের অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ:
​এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৪)। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল।
​র‍্যাব-৫ এর একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয় যে, আসামিরা ‘রজনীগন্ধা পরিবহন’ নামক একটি নৈশ কোচে করে ঢাকা পালানোর চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিক নাটোরে চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। র‍্যাব জানায়, তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল
01712483534