০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর বাগমারায় বাড়ীঘরে হামলা ও ভাঙচুর ঘরছাড়া পরিবার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ খোরশেদ আলম রাজ 

রাজশাহীর বাগমারায় বাড়ীঘরে হামলা ও ভাঙচুর ঘরছাড়া চারটি পরিবার।
ভ্রমণ সমিতি” নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে চারটি বাড়ীঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন চার পরিবারের সদস্যরা। হামলার সঙ্গে জড়িতরা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামে একটি ভ্রমন সমিতি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। সমিতি থেকে সদস্য শরিফুল হক নামের এক সদস্য টাকা পরিশোধ না করায় বিরোধ দেখা দেয়।  গত রোববার রাতে সমিতির সদস্য শরিফুল হকের কাছে পাওনা ১৫ হাজার টাকা সমিতির পক্ষে দাবি করা হয়। এনিয়ে শরিফুল হকের ভাই সেনমুল হকের সঙ্গে সদস্য জয়নাল আবেদিনের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। সেনামুল হক অন্য সদস্যদের বিষয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি অন্য সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে রোববার গভীর রাতে প্রতিপক্ষ জয়নাল আবেদিন, ভুট্টু, রিফাত, রায়হানসহ ৮০-৯০ জনের একদল লোক ধারাল অস্ত্র নিয়ে অপর পক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। 

হামলার সময়ে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বেছে বেছে সেনামুল, মাহাবুর, এনামুল ও আতাউর রহমানের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।  এসময় বাড়িঘর ছেড়ে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে ঘন্টা ব্যাপী হামলা ভাঙচুর চালিয়ে চলে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন।  সরেজমিনে গিয়ে চারজনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য চোখে পড়ে। আসবাবপত্র এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়িঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি।

আত্মগোপনে থাকা সেনামুল হক বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেছে। বাড়িঘরে বসবাসের কোনো পরিস্থিতি নেই। আবার হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কায় তাঁরা পালিয়ে আছেন। এদিকে সোমবার বিকেলে এই ঘটনার জন্য সেনামুল হক ও তার ভাইদের দায়ী করে তাঁদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হামলাকীসহ তাঁদের পক্ষের লোকজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, সমিতির পাওনা টাকা চাওয়াতে সেনামুল, শরিফুলসহ তাঁদের স্বজনেরা তাদের উপর হামলা করেছে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। হামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জয়নাল আবেদিন, ভুট্টু, টিপুসহ অন্যরা। 

অভিযোগ অস্বীকার করে সেনমুল হক বলেন, হামলাকীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে। আগ্নেয়াস্ত্র কী জানেনই না। হামলাকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন। তাদের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। পুলিশ থানায় গিয়ে মামলা করতে বললেও  পারেননি। 

এই বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনও মামলা হয়নি। হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

রাজশাহীতে র‍্যাবের অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার​

রাজশাহীর বাগমারায় বাড়ীঘরে হামলা ও ভাঙচুর ঘরছাড়া পরিবার

আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ খোরশেদ আলম রাজ 

রাজশাহীর বাগমারায় বাড়ীঘরে হামলা ও ভাঙচুর ঘরছাড়া চারটি পরিবার।
ভ্রমণ সমিতি” নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে চারটি বাড়ীঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন চার পরিবারের সদস্যরা। হামলার সঙ্গে জড়িতরা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামে একটি ভ্রমন সমিতি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। সমিতি থেকে সদস্য শরিফুল হক নামের এক সদস্য টাকা পরিশোধ না করায় বিরোধ দেখা দেয়।  গত রোববার রাতে সমিতির সদস্য শরিফুল হকের কাছে পাওনা ১৫ হাজার টাকা সমিতির পক্ষে দাবি করা হয়। এনিয়ে শরিফুল হকের ভাই সেনমুল হকের সঙ্গে সদস্য জয়নাল আবেদিনের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। সেনামুল হক অন্য সদস্যদের বিষয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি অন্য সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে রোববার গভীর রাতে প্রতিপক্ষ জয়নাল আবেদিন, ভুট্টু, রিফাত, রায়হানসহ ৮০-৯০ জনের একদল লোক ধারাল অস্ত্র নিয়ে অপর পক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। 

হামলার সময়ে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বেছে বেছে সেনামুল, মাহাবুর, এনামুল ও আতাউর রহমানের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।  এসময় বাড়িঘর ছেড়ে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে ঘন্টা ব্যাপী হামলা ভাঙচুর চালিয়ে চলে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন।  সরেজমিনে গিয়ে চারজনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য চোখে পড়ে। আসবাবপত্র এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়িঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি।

আত্মগোপনে থাকা সেনামুল হক বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেছে। বাড়িঘরে বসবাসের কোনো পরিস্থিতি নেই। আবার হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কায় তাঁরা পালিয়ে আছেন। এদিকে সোমবার বিকেলে এই ঘটনার জন্য সেনামুল হক ও তার ভাইদের দায়ী করে তাঁদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হামলাকীসহ তাঁদের পক্ষের লোকজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, সমিতির পাওনা টাকা চাওয়াতে সেনামুল, শরিফুলসহ তাঁদের স্বজনেরা তাদের উপর হামলা করেছে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। হামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জয়নাল আবেদিন, ভুট্টু, টিপুসহ অন্যরা। 

অভিযোগ অস্বীকার করে সেনমুল হক বলেন, হামলাকীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে। আগ্নেয়াস্ত্র কী জানেনই না। হামলাকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন। তাদের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। পুলিশ থানায় গিয়ে মামলা করতে বললেও  পারেননি। 

এই বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনও মামলা হয়নি। হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।